Atheism

আবু নুয়াসের শেষ কবিতা [The Last Poem of Abu Nuwas]

By

আবু নুয়াসের নাম প্রথম পাই প্রয়াত নাস্তিক অধ্যাপক ড. হুমায়ুন আজাদের বই আমার অবিশ্বাস  পড়তে গিয়ে। মদের আলোচনা প্রসঙ্গে তিনি আবু নুয়াসের নাম টেনে এনেছেন, আবু নুয়াসকে ‘মদের শ্রেষ্ঠ কবি’ আখ্যায়িত করেছেন। আবু নুয়াস রচিত খামারিয়া বা মদের কবিতা উল্লেখ যদিও করেন নি, তবে তার জন্য হা-হুতাশ করেছেন কিছুটা। তিনি লিখেন:

“মদের শ্রেষ্ঠ কবি আবু নুয়াস (৭৬২-৮১৪), যাঁকে বারবার দেখা যায় আরব্যরজনীতে হারুন আলরশিদের সাথে। মদের প্রশংসা ক’রে মৃত্যুদণ্ড তিনি এড়াতে পারেন নি; হায় নির্বোধ কবি, কেনো প্রশংসা করো; প্রকাশ্যে উচ্চকণ্ঠে নিন্দে করো, এবং গোপনে মাছের মতো খাও…” (পৃ. ১৪৫)

ড. আজাদের ভাবশীষ্য অভিজিৎ রায়ও তার এক লেখায় আবু নুয়াসকে টেনে এনেছেন। সমকামিতার পক্ষে লেখা সেই রচনায় তিনি কুরআন-সুন্নাহ থেকে কোনো দলিল না এনে, আবু নুয়াসের কবিতা থেকে প্রমাণ করার চেষ্টা করেছেন ইসলামে নাকি একবারে আদিকাল থেকেই সমকামিতার ঐতিহ্য ছিলো! আবু নুয়াসের কবিতা কীভাবে ইসলামের দলিল হয় তা এখন পর্যন্ত বুঝতে পারি নি! চরমোনাই পীর বা অন্য কোনো পীরের কোনো কথা কী নাস্তিকেরা বিজ্ঞানের কোনো দলিল বলে গণ্য করবে? অবশ্যই না।

যাই হোক, আবু নুয়াস সাহেব মদকে একেবারে ইবাদতের পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছিলেন! BBC উনার উপর লেখা এক প্রবন্ধের শিরোনাম দিয়েছিলো – The Arab Poet Who Worshipped Wine। পাশাপাশি ছেলেদের দেহ নিয়ে এমন বিচ্ছিরি কবিতা তার রয়েছে যা বলার বাইরে! মদের প্রতি এই অনুরাগের কারণে ইসলামের সমালোচনাকারী প্রাচ্যবিদদের তাকে যথাযথ সম্মান দিতে ভুলেনি, এবছরেরই শুরুর দিকে তার কবিতার নতুন একটি ইংরেজি অনুবাদ বেরিয়েছে। এসব আকামের কারণে তিনি পশ্চিমাদের থেকে বেশ সম্মান পেয়েছেন, যেমন প্রাচ্যবিদ F.F. Arbuthnot তাকে সমকালীনদের মতে শ্রেষ্ঠ কবি বলতে চেয়েছেন। এদিকে Philip F. Kennedy তাকে A Genius of Poetry বলে আখ্যায়িত করেছেন।

তবে যে ইতিহাসটা প্রাচ্যবিদদের লেখায় পাওয়া যাবে না তা হলো, জীবনের শেষ বিকেলে এসে আবু নুয়াসের অন্তরে পরিবর্তনের হাওয়া লেগেছিলো। স্বীয় কর্মে অনুতপ্ত হয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করেছিলো সে মহান রবের কাছে, অন্তত তাঁর কবিতা সেই স্বাক্ষ্যই বহন করে।

শোনা যায়, তিনি মারা যাওয়ার পর বেশ কয়েকজন তাকে স্বপ্নে দেখেন। স্বপ্নে তারা আবু নুয়াসের কাছে জানতে চেয়েছিলেন,
‘আল্লাহ আপনার সাথে কেমন আচরণ করেছেন?’
উত্তরে আবু নুয়াস বলেছিলেন, ‘তিনি আমার সব গুনাহ মাফ করে দিয়েছেন। কেন জানেন? শুধু আমার একটা কবিতার কারণে। কবিতাটা এখনো আমার বালিশের নীচে রয়েছে।’

যথাস্থানে অনুসন্ধান করে একটি কবিতা খুঁজে পাওয়া যায়। (১) পরিচিত কবিতার সাইট PoemHunter এ সেই কবিতাটি The Last Poem of Abu Nuwas নামে ইংরেজি অনুবাদে রয়েছে। (২) মূল আরবি ও ইংরেজি অনুবাদ পাশাপাশি রেখে সেই কবিতার বাংলা ভাবানুবাদ দাঁড় করানোর চেষ্টা করেছি। নিচে সেটা তুলে দিলাম:

“হে আমার রব, যদিও আমার গুনাহ অনেক বেশি,
আমি জানি তবো, ক্ষমা তোমার আরও অনেক বেশি।
আমি তোমায় ডাকছি সবিনয়ে, যেভাবে আমায় বলেছো তুমি,
যদি তুমি ফিরিয়ে দাও মোরে, তবে কে করবে রহম আমারে?
যদি ভালো মানুষই কেবল তোমায় ডাকে,
তবে পাপীরা যাবে আর কার কাছে?
আর কোনো ঠাঁয় নেই আমার, শুধু তোমারই ভরসায় ভাসমান,
আশা রাখি তোমার সৌম্য ক্ষমার, আরে আমি যে মুসলমান।”

আবু নুয়াস ফিরতে পেরেছিলেন, কিন্তু আবু নুয়াসের কবিতা দিয়ে মদ জায়েজ করা ড. আজাদ ও সমকামকে জায়েজ করা অভিজিৎ রায় ফিরতে পারেন নি রবের ক্ষমার দিকে। কি নির্মম পরিহাস!

[বক্ষ্যমাণ লেখাটি প্রকাশিতব্য গ্রন্থ অবিশ্বাসী কাঠগড়ায়  থেকে ঈষৎ পরিবর্তনসহ গৃহীত। এই লেখাটির জন্য ব্লগার, লেখক ও প্রকৌশলী শিহাব আহমেদ তুহিনকে ধন্যবাদ দিতে চাই। এ বিষয়ে তার পোস্ট থেকে বেশ কিছু তথ্য পেয়েছি। পাশাপাশি একটি রেফারেন্স খুঁজতেও তিনি সাহায্য করেছেন।]

 

 

 

 

 

রেফারেন্স:

(১) ইবনে আব্দুর রাব্বিহ আল-আন্দালুসি, আল ‘ইকদ আল ফারিদ; খণ্ড ০৩, পৃ. ২০৬ (বৈরুত: দারুল কিতাব আল ইলমিয়্যাহ, ১৪০৪ হিজরি)
(২) https://www.poemhunter.com/poem/the-last-poem-of-abu-nuwas/

 

You have already voted.

You may also like

Post A Comment

Your email address will not be published.