Physician | Author | Blogger

সাম্প্রদায়িকতা নিয়ে বামদের ভ্রান্তি

এক নজরে

“জার্মানিতে নাৎসিরা বলেন, তারা হলেন খাঁটি আর্য। জার্মান ইহুদিরা তা নন। জার্মান ইহুদিদের নিধন করে জার্মানকে করতে হবে বিশুদ্ধ জার্মান। জার্মানিতে শুরু হয় ইহুদি নিধন। বলা হয়, হিটলারের শাসনামলে প্রায় ৬০ লক্ষ ইহুদিকে মেরে ফেলা হয়েছিল গ্যাস চেম্বারে। ভারতে এখন কতকটা একইভাবে বলা হচ্ছে, মুসলমানরা আর্য নয়। হিন্দুরা হচ্ছেন আর্য। হিন্দুদের খাঁটি হিন্দু করতে হলে, করতে হবে দেশ থেকে মুসলিম বিতাড়ন। জার্মান নাৎসিবাদ প্রচার করেছিল ইহুদি বিদ্বেষ। বিজেপি প্রচার করছে মুসলিম বিদ্বেষ।

আমি বুঝি না কেন কী কারণে এই উপমহাদেশে ইতিহাস লিখতে গিয়ে আর্ধদের ওপর ঐতিহাসিকরা এতটা গুরুত্বারোপ করেছেন। কারণ, মহেনজোদারোতে ১৯২৩ সালে আবিষ্কৃত হয়েছে খুবই উন্নত মানের সভ্যতা। যাকে অধিকাংশ ঐতিহাসিক এখন বলছেন, অনার্য সভ্যতা। আর্যদের কোন লিখিত সাহিত্য ছিল না। অর্থাৎ তাদের ছিল না অক্ষরজ্ঞান। কিন্তু মহেনজোদারো বাসীদের তা ছিল। ভারতের পশ্চিমবঙ্গ সরকারের প্রত্বতাত্ত্বিক বিভাগ ১৯৬২ থেকে ৬৫ সালের মধ্যে বর্ধমান জেলার পান্ডু রাজার টিবি নামক স্থানে এবং সন্নিকটস্থ বিরভূম জেলার মহিশাদল নামক জায়গায় খনন কার্য চালান। এর ফলে আবিষ্কৃত হতে এ অঞ্চলে এক প্রাক-আর্য সভ্যতার নিদর্শন। এ অঞ্চলের মানুষ ধান চাষ করত, তামার তৈরি বড়শি দিয়ে মাছ ধরত। নানা রকম গড়নের এবং নকশাসমৃদ্ধ পোড়ামাটির পাত্র ব্যবহার করত।

কিন্তু তথাপি বিজেপি এখন গৌরব করছে কেবলই ভারতের আর্য সভ্যতা নিয়ে। আর পেতে পারছে বিপুল জনসমর্থন। তবে এই সমর্থন পাবার একমাত্র কারণ, আর্য সভ্যতা নিয়ে গৌরব করা নয়, এর মূল কারণ মুসলিম বিদ্বেষের প্রচার। যেমন জার্মানিতে ছিল ইহুদি বিদ্বেষ প্রচার যা নাৎসিদের করেছিল বিশেষভাবে জনপ্রিয়।

সেটা ১৯৬৬ সাল। তখন বাংলাদেশের খ্যাতনামা বুদ্ধিজীবী বদরউদ্দিন উমর ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রধান। তিনি একটা বই লিখেন, যার নাম হলো ‘সাম্প্রদায়িকতা’। জানি না কেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে বহু খ্যাতনামা শিক্ষক থাকা সত্ত্বেও উনি আমাকে বলেন বইটার একটি সমালোচনা লিখতে। আমি একটি সমালোচনা লিখি। যা প্রকাশিত হয় ঢাকা থেকে প্রকাশিত ‘সমকাল’ নামক মাসিক পত্রিকায়। আমার সমালোচনা পড়ে উমর সাহেব খুব ক্ষুদ্ধ হন। কেননা, আমি বলেছিলাম সাম্প্রদায়িকতা ব্যাপারটা কেবল মুসলমান কেন্দ্রিক নয়। হিন্দুরাও সাম্প্রদায়িকতার জন্য বিশেষভঅবে দায়ী। এই উপমহাদেশে হিন্দু-মুসলমান দ্বন্দ্ব কেবল মুসলমানের জন্য সৃষ্টি হয়নি। এর সৃষ্টি হতে পেরেছে হিন্দুদের মুসলমানকে ম্লেচ্ছ ভাবার জন্য।

বদরুদ্দিন উমর দীর্ঘ জীবন লাভ করেছেন। আমি তার দীর্ঘায়ু কামনা করি। তিনি এখনও বিভিন্ন পত্রিকায় বিভিন্ন রাজনৈতিক প্রসঙ্গে স্তম্ভ রচনা করে চলেছেন। জানি না, তিনি ভারতে এখন যে হিন্দু নাৎসিবাদের উদয় হয়েছে, সে সম্পর্কে কী বলেন। আসলে এদেশের সব বাম চিন্তক এক সময় ভেবেছেন যে, মুসলমানরা হলেন ধর্মান্ধ। কিন্তু হিন্দুরা তা নন। যেটা ছিল একটা গুরুতর ভুল। আমার খুব অদ্ভূত লেগেছিল যে, উমর তার পিতা এক সময়ের বিখ্যাত মুসলিম লীগ নেতা আবুল হাশিম (১৯০৫-১৯৭৪)-এর হাত ধরে প্রাণ ভয়ে বর্ধমান ছেড়ে পালিয়ে আসেন ঢাকায়। কিন্তু তিনি লিখতে পারছেন, সাম্প্রদায়িকতা’র মত বই; মুসলমানকে খাটো করে।”


এবনে গোলাম সামাদ, আমার স্বদেশ ভাবনা; অধ্যায় ১৭-ভারতে হিন্দু নাৎসিবাদ (ঢাকাঃ পরিলেখ প্রকাশন, ই-বুক ভার্সন বইটই)


Share This
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp
Share on email
Related Articles
Recent Articles

রাফান আহমেদ-এর বইসমূহ

আলাদাবইওয়াফিলাইফ

Copyright © Rafan Ahmed

No part of the website or posts can be published elsewhere without prior permission from author.  

Copyright © 2021 All rights reserved

error: Content is protected !!